Realme Narzo 50 - সেরা গেমিং ফোন! ফোনটি কেমন এবং কি কি সমস্যা রয়েছে ?

কিছু ফোন থাকে যেগুলো একদম চোখ বন্ধ করে রিকমেন্ড করা যায় রিয়েলমি নতুন ফোন Narzo 50 অলমোস্ট সেরকম একটা ফোন। অল মোস্ট কেন বলছি সেটা আপনারা পুরো ভিডিওটা দেখলেই বুঝে যাবেন। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ফোনটি আমি আমার সেকেন্ডারি ডিভাইস হিসেবে ইউজ করছি আমার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং এটাকে যেত গেমিং ফোন হিসেবে মার্কেট করা হচ্ছে কেমন গেমিং পারফরম্যান্স আসবে এটা থেকে সেটাই আজকে আপনাদেরকে জানাবো। এই ফোনটার একটাই ভেরিয়েন্ট বাংলাদেশে লঞ্চ হবে সেটা হচ্ছে 4gb 64gb ভেরিয়েন্ট এবং এটার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে 16 হাজার 499 টাকা বা সাড়ে 16 হাজার টাকা। এই প্রাইজে আসলে এই ফোনটি কেমন হবে সেটিই আজকের মূল আলচ্য বিষয়। প্রথমত এই ফোনটি দুইটি কালারে পাওয়া যাবে ব্লো এবং ব্ল্যাক। দুটো কালারের সুন্দর পেছনের দিকে কার্বন ফাইবার টাইপের এক ধরনের প্লেইন টেক্সটে ইউজ করা হয়েছে খারাপ লাগছে না দেখতে ভালই লাগছিলো দেখতে। ক্যামেরা হাউসটা একদমই গতানুগতিক এইটার যে বিল্ড কোয়ালিটি সেটা আমার কাছে এভারেজ মনে হয়েছে। পুরোটাই প্লাস্টিকের তৈরি সামনে গ্লাস কিন্তু ফ্রেম এবং বডি সবকিছুই প্লাস্টিকের। এইটার থিকনেস হচ্ছে 8.5 মিলিমিটার 5000mh ব্যাটারি, ফোনটি খুব একটা মোটাও না আবার খুব একটা স্লিমও না। ফোনটির ওজন হচ্ছে 184 গ্রাম যার কারণে ফোনটি হাতে নিলে খুব কমফোরটেবল লাগে।
 
Realme narzo 50

ওয়েট ডিসস্টিভেশন যেত ঠিকঠাক আছে সেকারনে। নিচের দিকে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট আছে প্রাইমারি মাইক্রোফোন আছে 3.5 মিলিমিটার অডিও জ্যাক আছে এবং একটা সিঙ্গেল বণ্টন ফেসিং স্পিকার আছে যে স্পিকারের সাউন্ড টা আমার কাছে ডিসেন্ট মনে হয়েছে এই প্রাইসে। বাম পাশে ভলিউম লকারের পাশাপাশি সিম কার্ড স্লট আছে যেখানে ডেডিকেটেড স্টোরেজের অপশন আছে ডুয়েল সিম এর পাশাপাশি। ডানপাশে পাওয়ার বাটন ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ইউজ করা হয়েছে যেটা ভালো ফাস্ট এবং একোরিটলি কাজ করছিল । ফোনটির উপরের দিকে কোন কিছুই নেই অভারঅল ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট।

এবার চলে আসি ডিসপ্লে তে,
এই ফোনটাতে 6.6 ইঞ্চি ফুল এইচডি প্লাস রেজুলেশনের একটা আইপিএস এলসিডি প্যানেল ইউজ করা হয়েছে এবং এটা হচ্ছে 20:9 এসপেক্ট রেশিও। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এই ডিসপ্লেটা 120Hz রিফ্রেশ রেটের আর এর জন্য আমরা যদি 60Hz এর সাথে এটি কম্পেয়ার করি তাহলে এই ফোনটিতে খুবই স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স এটা থেকে পাওয়া যায়, ইউ আই নেভিগেশান, কিছু গেম আছে যেগুলো হায়ার প্রেসার সাপোর্ট করে, স্কলিং, এই সবকিছুই বেশ একটা স্মুথ এবং ভালো ফিল দিচ্ছিল।
 
সেই সাথে ডিসপ্লের কালার গুলো ঠিকঠাক ছিল, এটাতে ভিউ এঙ্গেল ইস্যু তেমন পাওয়া যায় নি, বা কালার নেগেটিভিটিও নেই। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস টা আমার কাছে ওকে লেগেছে ডিরেক্ট সান লাইটে গেলে কিছুটা প্রবলেম হবে। তবে সবকিছু বিবেচনা করলে মনে হয় যে ব্রাইটনেসটা ঠিকঠাক ছিল। তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে এটা ডিসপ্লেতে হোয়াইট লেবেল সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। সফওয়্যারে অ্যান্ড্রয়েড ১১ আছে যার উপরে আছে রিয়েল মি UI 2.0 এবং রিয়েলমি UI এর প্রশংসা অনেকেই করে যেটা খুবই ভালো একটা ইউআই। তবে একটা বিরক্তিকর বিষয় যেটা তা হলো, প্লে স্টোর থেকে কোন অ্যাপ ইন্সটল করলে অ্যাপটা ইন্সটল হওয়ার পরে স্ক্যানিংয়ের কথা বলে মাঝখানে একটা অ্যাড দেখিয়ে দেওয়া হয়, তবে আমি মনে করি বর্তমানে বেশিরভাগ চাইনিজ ফোনগুলো এইটা করছে কোন না কোন ভাবে তারা অ্যাড সো করানোর চেষ্টা করে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা ভালো আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা এতটাও ভালো না আমার মনে হয় ইউআই যত ক্লিন রাখা যায় ততই ভালো, তবে আমার মনে হয় যে এই অ্যাডগুলো মাধ্যমেই ব্র্যান্ডগুলো তাদের ফোনের দাম কমাতে পারে, তাই সেই বিবেচনা করলে এইগুলো কিছুটা মেনে নেওয়াই যায়।

এইবার চলে আসি আসল জায়গা, পারফরম্যান্স
এই ফোনটির একটি ভেরিয়েন্টই আসবে 4/64 জিবি ভেরিয়ান্ট তবে 6/128 ভেরিয়ান্টটা আনলে আরো ভালো হতো। এই ফোনটিতে Mediatek Helio G96 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই প্রসেসর টি 12 নেনো মিটার দ্বারা বিল্ড করা একটি Octa-core chip। G95 প্রসেসর এর থেকে G96 এই প্রসেসরে শুধুমাত্র GPO তে একটু পরিবর্তন এসেছে আর বাদ বাকি সব কিছু আগের মতই আছে। GPO কিন্তু সরাসরি ফোনের গেমিং পারফরম্যান্স এ ইম্প্যাক্ট করে, কল অফ ডিউটি মোবাইল এবং পাবজি নিউস্টেট খুব ভালোভাবেই খেলা যাবে।
 
সেটিং লাইট এবং মিডিয়াম রেখে গেমিং করলে ফোনটিতে বেটার পারফরম্যান্স এই প্রসেসরটি দিতে পারবে। আপনারা যদি গ্রাফিক্স একটু ভালো চান তাহলে মিডিয়াম গ্রাফিক্স দিয়ে যদি 50FPS দিয়ে বা আল্ট্রা সেটিংস যেটা আছে সেটাতে রাখেন তাহলে ভালো গেমিং পারফর্মেন্স পাবেন। যদি দীর্ঘসময় ফোনটিতে গেম খেলেন তাহলে ফোনটার উপরের দিকে হালকা একটু গরম হচ্ছিল এবং মিডিয়াটেক প্রসেসর এবং একটু বেশি হর্সপাওয়ার যে প্রসেসর গুলোতে থাকে সেগুলো একটু বেশি গরম হয়, এই গরমটা আসলে মানিয়ে নেয়ার মতই তেমন বেশিও না। গেমিং পারফরম্যান্সের জন্য আসলে এই ফোনটি বাজেট অনুযায়ী বেশি ওকে ছিলো। আর রেগুলার কাজেও এই ফোনটা ভালো সাপোর্ট দিচ্ছিল অ্যাপ ওপেনিং ক্লোজিং সব কিছুই বেশ স্মুথ ছিলো, মাল্টি টাস্কিংও খুব ভালো মত করা যাবে এই ফোনটিতে। যেহেতু 4জিবি ‌রেম ব্যবহার করা হয়েছে তাই ওভার মাল্টিটাস্কিং এতোটাও বেশি একটা করা যাবে না, তবে 120 hz ফ্রেমরেটের সাথে বেসিক মাল্টিটাস্কিং ভালোই পাওয়া যাবে।

এবার আসি ক্যামেরায়,
ফোনটার পেছনে তিনটা ক্যামেরা আছে যার প্রাইমারি 50 মেগাপিক্সেলের, 2 মেগাপিক্সেলের মাইক্রো লেন্স আরেকটা 2 মেগাপিক্সেলের এর ব্ল্যাক এন্ড ওয়াইট ডেপ্ত সেন্সিং লেন্স। এই ফোনটিতে আল্ট্রা সেন্সর ক্যামেরা নেই। প্রাইমারি ক্যামারায় ছবি গুলো বেশ ডিটেল্স এবং দেখতে সুন্দর হবে। ছবির কালার গুলোও ঠিকঠাক পাওয়া যাবে। ফোনটির পোর্টরেটে ও বেশ ভালো ছবি পাওয়া যাবে। লো লাইটে এই ফোনটির ছবি তেমন একটা আশানুরূপ পাওয়া যাবে না, তবে বাজেটের কথা বিবেচনা করলে মোটামুটি মেনে নেয়া যায়। ভিডিও বেলাতে 4k নাই, কোন ধরনের স্ট্যাবিলাইজেশন নেই, 1080p তে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন ডিসেন্ট কোয়ালিটির ভিডিও পাবেন এটাতে। সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে যা দিয়েও ডিসেন্ট কোয়ালিটির সেলফি তোলা যায়, লাইট যদি ভাল থাকে তাহলে ছবিগুলো দেখতে সুন্দর লাগবে। তবে লো লাইটে ছবিরগুলো ততটাও ভালো আসবে না, তবে ফন্ট ক্যামেরাটা যদি আরো একটু বেটার করা যেতে তাহলে খুব পারফেক্ট হতো। ক্যামেরা মোটামুটি অনেক ঠিকঠাকই ছিলো বাজেট অনুযায়ী তবে আরো একটু ইম্পুভ করা গেলে মনে হয় এইফোনটা ক্যামেরাতেও বাজিমাত করতে পারতো।

এবার আসি ব্যাটারিতে,
এটাতে 5000mh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যাটারি দিয়ে যদি আপনারা 120hz রিফ্রেশ রেট দিয়েও যদি ব্যবহার করেন তহলেও একদিনের বেশি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। অটো দিয়ে ব্যবহার করলে দেড় দিন এর মত ব্যাকআপ পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এটার বক্সের মধ্যে যে 33 ওয়াটের ফাস্ট চার্জারটা দেয়া আছে এটা দিয়ে আপনারা এক ঘণ্টা 10 থেকে 15 মিনিটে ১০০% চার্জ করে ফেলতে পারবেন যেটা বেস্ট ফাস্ট। চার্জিং নিয়ে মনে হয় না কোনো ইস্যু আপনাদের হবে চার্জিং স্পিড এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ এই দুই জায়গাতেই এই ফোনটি বেশ ভালো।
এবার চলে আসি আমাদের মূল আচলোনায়, এই ফোনটা 16500 টাকায় কেমন হবে? অবশ্যই এই প্রাইজের মধ্যে আপনারা বুঝতেই পাড়ছেন যারা একটু গেমিং খুজেন, যারা একটু পারফরম্যান্স ভালো চান এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ চান তাদের জন্য এই ফোনটি এককথায় আইডিয়াল চয়েজ হবে বলে আমি মনে করি। ক্যামেরার জায়গার একটু পিছিয়ে থাকবে এইটা অন্যান্য এই বাজেটের ফোনগুলো থেকে, যদি আপনারা শুধু ক্যামেরা ভালো চান তাহলে আমি বলবো আপনারা এই বাজেটে আরো ভালো ক্যামেরা পারফরম্যান্সের ফোন পাবেন। 
 

আশা করি আমাদের এই রিভিউটি আপনাদের কাজে আসবে, কারা এই ফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং কাদের জন্য এই ফোনটি পাশাপাশি এর সকল তথ্য আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি আশা করছি আপনাদের কাজে আসবে। এই ফোন সংক্রান্ত যদি আরো কোন প্রকার ইনফরমেশন আপনাদের জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। 
ধন্যবাদ।

Related Post :
1. Pinterest- এ অর্থোপার্জনের ৬টি উপায় (ব্লগিং এবং ব্লগিং ছাড়া)
2. ইউটিউবে ১০,০০০ সাবস্ক্রাইবার পাওয়ার সহজ কৌশল !!!

Comments