কিভাবে শূন্য থেকে শুরু করে একজন প্রো ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠবেন

আপনি যদি জানতে চান কিভাবে অনলাইনে আপনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করবেন। আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তাহলে আপনি কীভাবে শুরু করবেন ? কোথায় শুরু করবেন ? কী করবেন, কিভাবে করবেন এবং কীভাবে এক মাসেরও কম সময়ে আপনার প্রথম ১০টি ক্লায়েন্ট পেতে পারেন এই সকল কিছু যদি আপনি জানতে চান তাহলে আমাদের আজকে আর্টিকেলটি আপনার অনেক কাজে আসবে। 

আজ আমরা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করব কারণ আমরা সবাই মনে করি এটি এমন একটি অনলাইন কাজ যা শুরু করা সবচেয়ে সহজ।  এবং এটি শুরু করতে হলে কোন প্রকার বাজেটের প্রয়োজন হয় না আমরা $0 থেকে শুরু করতে পারি। কীভাবে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করবেন আপনার কী জানা উচিত এবং কোথায় থেকে জানা উচিত সকল কিছুই বিস্তারিত আলোচনা করবো, তাহলে চলুন শুরু করি: 



আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসাবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাহলে শুরু করার আগে আপনাকে কিছু জিনিস সম্পর্কে নিজেকে ক্লেয়ার করতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনার যা যা থাকা উচিত আপনার সেই সকল কিছু আছে সেই সম্পর্কে আগে আপনি নিজেকে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করুন। আমরা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সবাই শুরু করতে চাই, কারণ আমরা অনলাইনে বা আমাদের আসে পাশে আমরা যে কোন খান থেকে বিভিন্ন খবর পাই যে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর টাকা উপার্জন করা যায়। আর এই সকল প্রকার খবর শুনার পর আমরাও খুব সহজেই মনে করি কি যে আমরা ফ্রিল্যান্সিং এর কোন একটি কোর্স করবো ৩ মাস অথবা ৬ মাসের তারপর আমরা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো এবং মাসে মাসে প্রচুর ডলার ইনকাম করবো বাকি সবার মত। কিন্তু জিনিসটা যদি এতোটাই সহজ হতো তাহলে হয়তো পৃথিবীতে এতা বেকার ছেলে মেয়ে থাকতো না। কোন কাজই এতো সহজ নয়, আসলে আমাদের মধ্যে আমরা প্রায় ৬০%ই নতুন অবস্থায় যখন ফ্রিল্যান্সিং করার কথা চিন্তা করে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে নামার চেষ্টা করি আমরা সবাই মনে করি যে ফ্রিল্যান্সিং মনে হয় অনেক সহজ। কিন্তু আমরা আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, ফ্রিল্যান্সিং এতোটাও সহজ নয়। আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে আপনাকেও অনেক কিছুর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। 


ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য আমাদের কি কি অভিজ্ঞতা থাকতে হবে? 


ফ্রিল্যান্স দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা কি?

ফ্রিল্যান্স দক্ষতা এমন ক্ষমতা যা ব্যক্তিদের কোম্পানির সাথে আরও ভাল যোগাযোগ করতে, তাদের পরিষেবার বিজ্ঞাপন দিতে এবং ক্লায়েন্টদের জন্য দক্ষতার সাথে তাদের কাজ সম্পূর্ণ করতে সজ্জিত করে। তারা সাধারণত চুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করে, যখন একটি ব্যবসা তাদের একটি বিশেষ কাজ বা পরিষেবার জন্য নিয়োগ করে। ফ্রিল্যান্সাররা শিক্ষা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, লেখালেখি, সম্পাদনা, গ্রাফিক ডিজাইন এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য তাদের দক্ষতা ব্যবহার করতে পারে। 


ফ্রিল্যান্স দক্ষতা

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে, আপনি আপনার বিশেষ ক্ষমতা হাইলাইট করতে পারেন। এই দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত:


  1. যোগাযোগ (Communication)

  2. আলাপ - আলোচনা (Negotiation)

  3. শিল্প জ্ঞান (Industry knowledge)

  4. মার্কেটিং (Marketing)

  5. গ্রাফিক ডিজাইন (Graphic design)

  6. সৃজনশীলতা (Creativity)

  7. প্রকল্প ব্যবস্থাপনা (Project management)

  8. সহানুভূতি (Empathy)

  9. লেখা এবং গবেষণার দক্ষতা (Writing and research skills)

  10. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Web development)

  11. সামাজিক মাধ্যম (Social media)

  12. তথ্য বিশ্লেষণ (Data analysis)


উপরের এই দক্ষতাগুলো অবশ্যই আপনার ভিতর থাকতে হবে, তা না হলে আপনি কোন অবস্থাতেই আপনার ফ্রিল্যন্সিং ক্যারিয়ারে আগে যেতে পারবেন না। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এই দক্ষতাগুলো ছাড়াই তাদের ক্যারিয়ার শুরু করার চেষ্টা করে কিন্তু দুভার্গ্যবশত তাদের এই ভুলের কারণে তারা তাদের ক্যারিয়ারে সফল  হতে পারে না। আপনি ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন এতে কোন প্রকার দক্ষতার প্রয়োজন পড়বে না, আপনি যদি নরমাল কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ইউজ করতে পারেন তাহলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন, কিন্তু তা বেশি দূর পর্যন্ত অতিবাহিত হবে না। কেননা আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার অভাব আপনাকে বেশি দূর পর্যন্ত নিতে পারবে না। 



উপরের এই দক্ষতা গুলো আপনার মধ্যে থাকলে আপনি ফাইভার মার্কেটপ্লেসে এন্ট্রি করতে পারেন এবং আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ট্রাই করতে পারেন। ফাইভার হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য নতুনদের জন্য বেস্ট একটি ওয়েবসাইট। অনেকেই ফাইভার সম্পর্কে কম বেশি জানেন, কারণ যখন আমরা ফ্রিল্যান্সিং এর কথা চিন্তা করি তখন ফাইভার আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি থাকে। কারণ ফাইভারে আপনি প্রচুর পরিমাণে ক্লায়েন্ট পাবেন, তবে ফাইভারে যদি আপনি ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ফাইভার এর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তারপর শুরু করতে হবে, তাহলেই আপনি ফাইভারে ভালো করতে পারবেন। ফাইভারে যেমন অনেক ক্লায়েন্ট আছে তেমনি অনেক ফ্রিল্যান্সারও আছে, আপনাকে তাদের সাথে পাল্লা দিতে হবে, আপনি যদি তাদের সাথে পাল্লা দিতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে তাদের থেকে কিছু ব্যতিক্রম অথবা ক্রিয়েটিভ কিছু করতে হবে, যাতে ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিতে আগ্রহ হয়। যেহেতু আপনি ফুল টাইম ফাইভারে কাজ করবেন অথবা যেহেতু আপনি ফাইভারে আপনার ক্যারিয়ার তৈরি করবেন সেইক্ষেত্রে আপনাকে ফাইভারে লং টাইম কাজ করার মনোবল নিয়ে মাঠে নামতে হবে এবং আপনাকে অবশ্যই আপনার ক্লায়েন্টকে আপনার বেস্টটা দিতে হবে। 



ফাইভারে একাউন্ট খোলার পর আপনাকে আরো কিছু কাজ করতে হবে যেইগুলো সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। যেমন: 

  • আপনার ফাইভার অ্যাকাউন্টটি সাজানো- প্রোফাইল ফটো, ডেসক্রিপশন, স্কিলস ইত্যাদি সকল কিছু সুন্দর করে গুছিয়ে দিতে হবে। যাতে একজন ক্লায়েন্ট খুব সহজেই বুঝতে পারে, যে আপনি কেমন কাজ করেন ফাইভারে এবং আপনার কোন কোন কাজের উপর কেমন অভিজ্ঞতা আছে এবং আপনি কি কি কাজ করেছেন এর আগে। 

  • তারপর হচ্ছে গিগ তৈরি করা, আপনাকে ফাইভারে গিগ তৈরি করতে হবে, ফাইভারে কিভাবে গিগ তৈরি করবেন একদম ফার্স্ট থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কিছু নিয়ে আমাদের আরো একটি আর্টিকেল আছে আপনি এইটি পড়তে পারেন। 

  • গিগ মার্কেটিং, গিগ তৈরি করার পর আপনাকে গিগ মার্কেটিং করতে হবে। 

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অ্যান্ড ক্লায়েন্ট সার্চ। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কিভাবে আপনি আপনার কাঙ্খিত ক্লায়েন্ট পাবেন এইটি নিয়েও আমাদের বিস্তারিত একটি আর্টিকেল আছে আপনি পড়তে পারেন। 


ফাইভার এ কাজ করার জন্য আর একটি জিনিষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো একটি পোর্টফোলিও।

পোর্টফোলিও কী? 

পোর্টফোলিও বলতে সাধারন অর্থে যা বুঝায় তা হলো কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব স্টোর যেখানে শিল্পকর্ম বা কাজের নমুনা সংক্ষন করা হয়। আর যদি সহজ ভাষায় একজন ফ্রিল্যান্সারের দিক দিয়ে বলি তাহলে ।একজন ফ্রিল্যান্সার যে বিষয় নিয়ে কাজ করে সে বিষয়ের কিছু কাজের নমুনা যে অনলাইন প্লাটফর্মে সংরক্ষন করে তাকে পোর্টফোলিও বলে। 


  • পোর্টফোলিও কেন বানাবেন? 

  • পোর্টফোলিও কেন গুরুত্বপূর্ন? 

  • পোর্টফোলিও কিভাবে তৈরি করবেন?

  • কোন সাইটে পোর্টফোলিও তৈরি করবেন?

  • পোর্টফোলিওর মাধ্যমে কিভাবে ক্লাইন্ট তৈরি করবেন? 


এই সকল কিছু আমরা আমাদের পরবর্তী কোন একটি আর্টিকেলে আপনাদের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো।

Comments